এক গ্রামে পুরাতন একটি জঙ্গল ছিল জঙ্গলটি ছিল অনেক বড় ও প্রাচীন। গ্রামের লোকেরা এই জঙ্গলটিকে তাদের বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছে। জঙ্গলটির সম্পর্কে তাদের তেমন কিছু ধারণা নেই, তবে শুধু এতটুকুই জানে জঙ্গলটি অনেক ভয়ানক ও হিগ্র প্রাণীদের আবাসস্থল। পুরো জঙ্গলজুড়ে ছিল শিয়ালের রাজত্ব। তাই গ্রামের লোকেরা জঙ্গলটির নাম রেখেছিল শিয়ালডোবা বলে। কারণ গ্রামের মানুষগুলো শিয়ালের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। দিনদুপুরে শিয়ালের আনাগোনা আর বিকাল হলেই শিয়ালের হুক্কাহুয়া……….। তার আওয়াজ পুরো গ্রামকে আতঙ্কিত করে তুলত। তাই গ্রামের লোকেরা সন্ধ্যা হলেই আর কেউ রাস্তাঘাটে বের হতো না। সন্ধ্যা হলেই শিয়ালের অত্যাচার শুরু হয়ে যেত পুরো গ্রামে। আর গ্রামের মানুষগুলো জলদি করে ঘরের দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে থাকত। এই ভয়ানক জঙ্গলের পাশেই বাস করত এক গরিব কাঠুরিয়া। তার পরিবারের ছিল অনেক সমস্যা। ছিল অনেক অভাব আর অনাটনের মাঝে এই গরিব কাঠুরিয়াটি তার জীবন চলার জন্য প্রতিদিন এই শিয়ালডোবা জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করে তারপর চাল-ডাল কিনে। জঙ্গলটি অনেক প্রাচীন হওয়ায় তার অনেক ভয় হতো জঙ্গলে প্রবেশ করতে। আর কাঠুরিয়া মনে শখ করে একটি মুরগির পালত মুরগিটি ছিলে অনেক সুন্দর। আর তার সঙ্গে ছিল দুটি ছোট্ট বাচ্চা। বাচ্চাগুলো সারাক্ষণ তার পাশেই থাকত। কাঠুরিয়া তার গিন্নিকে সব সময় মানা করত মুরগি যেন কোনোভাবেই জঙ্গলে না যেতে পারে। কারণ কাঠুরিয়া যানত এই শিয়ালডোবা জঙ্গলেই একটি ধূর্ত শিয়াল আছে; সে যদি তার মুরগিকে একবার কোনোভাবে দেখতে পারে, তাহলে আর ছাড়বে না। কারণ ধূর্ত শিয়ালটি ছিল অনেক চালাক ও দুষ্ট প্রকৃতির। যত দুষ্ট বুদ্ধি ছিল সব তার মাথায় থাক”ত । তার দুষ্টামির কারণে বনের অন্যান্য শিয়ালও রাগ হয়ে যেত। সারাক্ষণ তার নামে শিয়াল পন্ডিতের কাছে নালিশ দিত পশুরা। একবার এক নদীর ধারে একটা কোকিলপাখি মনের সুখে গান গাচ্ছিল; ঠিক তখনি ধূর্ত শিয়ালটি নদীর পারে গেল জল পান করার জন্য যখন সে কোকিলের মিষ্টি সুরের গান শুনতে পেল তখনি তার হিংসা জেগে উঠল এবং কোকিলকে বলতে লাগল। হে কোকিল ভাই, তোমার এত সুন্দর কণ্ঠ! এত ভালো করে কি করে তুমি গান গাও আমাকে শিখাবে? কোকিল তখন ধূর্ত শিয়ালের কাথায় কোনো কান না দিয়ে মনের সুখে গান গেয়েই যাচ্ছে আর গাছের নিচে বানর, টিয়াপাখি, বুলবুলি তার গান শুনছে। শিয়ালের কথায় কোকিল কান না দেওয়ার কারণে শিয়ালের রাগ আরো বেশি বেড়ে গেল, যার ফলে সে বলতে লাগল কোকিল ভাই নিচে নেমে নদী থেকে জল পান করে নাও। তারপর আবার গান ধরো, তাহলে আরো বেশি চমৎকার লাগবে। কোকিল শিয়ালের কথায় যখন নিচে নেমে পানি পান করতে লাগল, ঠিক তখনি ধূর্ত শিয়াল তার ঘাড় চেপে ধরল পানির নিচে এবং এভাবেই কোকিলের মৃত্যু হয়ে গেল। এ দৃশ্য দেখে বানর টিয়া আর বুলবুলি জলদি শিয়াল পন্ডিতের কাছে নালিশ দিল। তখন ধূর্ত শিয়ালকে ডেকে নেওয়া হলো এবং তার কাছে থেকে ঘটনা সত্যতা যাচাই করে বনের সব পশুরা তাকে শিয়ালডোবা বন থেকে বের করে দিল। তখন এই দুষ্ট ধূর্ত শিয়ালটি নদীর পাড়ে গিয়ে বসবাস করতে লাগল।
তখন থেকে সে একা হয়ে গেল। বনের কোনো পশুই তার সঙ্গে কথা বলে না। কাছে আসে না। তার জন্য শিয়ালডোবা জঙ্গলে প্রবেশও নিষেধ করে দিয়েছে শিয়াল পন্ডিত। তাই সারাক্ষণ শুধু ধূর্ত শিয়ালটি মন খারাপ করে নদীর পাড়ে বসে থাকে আর কান্না করে। সব পশুই বিকাল বেলায় নদীতে জল খেতে এসে তাকে দেখতে পায়, কিন্তু কেউ তাকে কাছে ডাকে না। এদিকে ধূর্ত শিয়ালটির মাথায় এক দিন একটা দুষ্ট বুদ্ধি এলো। সে এক দিন বনজঙ্গল দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঠুরিয়ার বাড়িতে চলে গেল। গিয়ে দেখে কাঠুরিয়ার মুরগিটি বসে বসে কান্না করতেছে। শিয়াল জিজ্ঞেস করল, কি গো ভাই! কি হয়েছে তোমার? মনের দুঃখে কান্না করতেছো? এত কিসের দুঃখ তোমার। নিশ্চয় তোমার মালিক তোমাকে ভালো কিছু খেতে দেয় না, তাই হয়তো বসে বসে কান্না করতেছো? তুমি আগামীকাল আমার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসো। আগামীকাল আমার বাড়ি তোমার নিমন্ত্রণ রইল। মুরগী বলল, না ভাই খাওয়ার জন্য নয়। আমার আদরের বাচ্চা দুটা কে হারিয়ে ফেলেছি। আজ দুদিন ধরে তাদের খুঁজে পাচ্ছি না। নিশ্চয় তাদের কোনো শিয়ালে নিয়েছে গেছে। তাই কাঁদতেছি……………………………। পরের গল্প দ্বিতীয় অধ্যায়ে